আমি যে শৈশব পাইনি, আমার ভাই যেন তা পায়: ইয়ামাল

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিগত এক আবেগঘন গল্প।

 

ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে থাকা ইয়ামালের মাত্র তিন বছর বয়সী ভাই কেইন দর্শকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। সোফাই স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখনই গ্যালারির দিকে ঘুরেছে, তখনই ছোট্ট কেইনের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমিভরা অভিব্যক্তি সবার মন জয় করেছে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার ভিডিও।

 

কেইন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়ামালের মা শিলা এবানার ঘরে জন্মগ্রহণ করে। দুই ভাইয়ের মা এক হলেও বাবা ভিন্ন, ফলে তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।

 

ইয়ামালের শৈশব ছিল সহজ নয়। ছোট থাকতেই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান এবং তিনি গ্রানোইয়ার্সে মায়ের কাছেই বড় হন। পরবর্তীতে তার মা পুনরায় বিয়ে করলে জন্ম হয় ছোট ভাই কেইনের।

 

এই বড় বয়সের ব্যবধান ইয়ামালকে তার ভাইয়ের বেড়ে ওঠা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ দিয়েছে। নিজের কঠিন শৈশবের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন,

‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে, যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম—আর এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’

 

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হওয়ার পরও ইয়ামাল নিজের পারফরম্যান্স নয়, কথা বলেছেন পরিবার নিয়ে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন,

‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা ও বন্ধুদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে ভালো লাগে। আমার ছোট ভাইই আমার সব—আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি; মনে হয় সে যেন আমার নিজের সন্তান।’