লন্ডনে স্ত্রী-সন্তান রেখে দেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি, প্রবাসী স্ত্রীর অভিযোগে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক্সেলেন্স২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক্সেলেন্স২৪

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬

লন্ডনে স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গোপনে দেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাহ আজিজ বাদশাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী সাহানা বেগম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)’-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জরুরি আইনি সহায়তা চেয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটের ওসমানীনগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাহানা বেগম (৪০) জন্মসূত্রে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। অন্যদিকে তার স্বামী শাহ আজিজ বাদশাহ (৪০) ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর গ্রামের হাজী শাহ নূর উদ্দিন ও রুকিয়া বেগমের সন্তান। ২০১৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান বাদশাহ। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ ও যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৫,০০০ পাউন্ড দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় সন্তান অটিজমে আক্রান্ত।

 

লিখিত অভিযোগে সাহানা বেগম দাবি করেন, বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের প্ররোচনায় স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে। তাকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া স্বামী সংসারের ভরণপোষণে অবহেলা করে তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৮ জুন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পরে তিনি জানতে পারেন, স্বামী তাকে না জানিয়ে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করছেন। পরিবারের সহযোগিতায় আজ (১০ জুলাই) রাতে সিলেটের গোয়ালাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে জগন্নাথপুরের এক তরুণীর সঙ্গে ওই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বিয়ের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শাহ আজিজ বাদশাহ বলেন, তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এটি সত্য। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে থাকা স্ত্রীকে তিনি তালাক দিয়েছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, তালাকের পরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং এখনো স্ত্রীর প্রাপ্য দেনমোহর ও সন্তানদের ভরণপোষণ পরিশোধ করা হয়নি। তবে তিনি তা পরিশোধের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং লন্ডনে তার মালিকানাধীন বাড়িটি স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দেওয়ার কথাও জানান।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম বলেন, বাদশাহ তাদের এলাকার বাসিন্দা নন, তবে তিনি বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। তার লন্ডনে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে বলে শুনেছেন, তবে তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত নন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বিয়ের বিষয়টি সত্য হলেও তালাক সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট নয়। প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা অন্যায় হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, বাদশাহ তার ভাগ্নে এবং তিনি যুক্তরাজ্যে থাকা স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন—এমন কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে।

 

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ‘আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)’-এর একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।