সারাদেশে কৃষক জরিপ শুরু—কারা পাবেন ‘কৃষক কার্ড’?

ডেস্ক নিউজ :

ডেস্ক নিউজ :

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬

 

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে।

 

সম্প্রতি ডিএই’র মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির’ দ্বিতীয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

কার্যক্রমকে সফল করতে ১৪ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে এখন মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

ডিএই’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা—পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ও সমন্বিত কৃষক ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকদের সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং তাদের জন্য সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

প্রাথমিকভাবে যারা সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কৃষিজমির মালিক বা চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত—তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত কৃষকরাই ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

 

কৃষি খাতে সুশাসন ও সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘কৃষক কার্ড’ চালু হলে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসবে বলেও আশা করা হচ্ছে।