মৌলভীবাজারে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রূপের দৌরাত্ম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬
ডেস্ক রিপোর্ট:
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং সংরক্ষিত বনভূমিতে দুর্বৃত্তদের তৎপরতা বেড়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান করলেও কোনো চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি ।
স্থানীয়ভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে মৌলভীবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট বড় একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পাচার, অবৈধ ড্র্যাগ ব্যবসা,মানব পাচার, চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেল চুরি, ইভটিজিং ও পথচারীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সূত্রে জানা যায়, উক্ত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রে দীর্ঘদিন থেকে অভিজ্ঞ সন্ত্রাসীরা জড়িত রয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় যে সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অপরাধে জড়িত ছিল, সরকার পরিবর্তনের পরও তারা তাদের স্বার্থে বর্তমান ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের কিছু সন্ত্রাসীদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে তাদেরই ছত্র ছায়ায় সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধ জগতের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এই সকল সন্ত্রাসীদের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবেক ক্ষমতাশীল দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের খুখ্যাত সন্ত্রাসী আরমান খান, টিপু মুন্সি বর্তমান সরকারি দল বিএনপির মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী সোলাইমান শাওন, আজম শাহ ও জসিম মিয়া।
বড়লেখা উপজেলার স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মালিক, সরকার দল বিএনপির অঙ্গসংঘঠন বড়লেখা উপজেলা যুবদলের নেতা মিজানুর রহমান সহ তাদের সহযোগীরা সাবেক আওয়ামিলীগের নেতা চাঁদাবাজ শামস উদ্দিন, মানব পাচারকারী শোয়েব আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ ।
কমলগঞ্জ উপজেলার বর্তমান বিএনপি নেতা মার্চেন্ট আব্দুল কাদির, সাবেক ছাত্রদল নেতা কাওসার হোসেন, পুলিশের লিস্টে দাগি আসামি আওয়ামীলীগ এর সাবেক নেতা হাবীবুল্লাহ , যুবলীগ নেতা সাজেদুল আলম সহ তাদের সহযোগীরা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল চৌধুরী, যুবলীগ নেতা মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ আজম আলী, সরকার দলের যুবদল নেতা কালা ডায়মন্ড খ্যাত শিশির, বিএনপি নেতা আসলাম খান।
বড়লেখা উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান জানান, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সন্ত্রাসীদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
মৌলভীবাজারের চাকুরীজীবি সেলিম উদ্দিন জানান,, পুলিশকে জনগণের নিরাপত্তায় অধিক মনোযোগী হতে হবে।
মৌলভীবাজারের একজন শিক্ষিত গৃহিনী জোবায়দা বেগম জানান, আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখনো কেন ধরা ছোয়ার ভাইরে তা আমাদেরকে চিন্তিত করে তুলেছে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, “সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। পুলিশ প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের কাজ জনসাধারণের জীবন ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। “

