বাণিজ্য ও শোভন কাজ—একই আলোচনায় জোর দিল অংশীজনরা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬
ঢাকা, বৃহস্পতিবার: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শোভন কাজকে একসূত্রে গেঁথে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের অংশীজন পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (MoC), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) যৌথভাবে আয়োজিত এ সভায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, থিংক-ট্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় ২৩টি সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কর্মশালার সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব সুপারিশের লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশের বাজার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আইএলওকে ‘রেসপন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (RBC) সেল’ ও জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সহায়তা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের রপ্তানিমুখী সরবরাহ শৃঙ্খলায় ট্রেসেবিলিটি (পণ্যের উৎস ও প্রক্রিয়া অনুসরণযোগ্যতা) জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসা নিবন্ধনের সময়সীমা ১৪ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে, যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন ও আজীবন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে শুধু পণ্য নয়, বরং কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন পরিবেশে তা উৎপাদিত হচ্ছে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও পরিবেশগত মানদণ্ডকে ‘বাজারে প্রবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার দ্বার’ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে বাংলাদেশের আরও অগ্রগতির প্রতি সমর্থন জানান।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই, ট্রেসেবিলিটি, শ্রমমান ও পরিবেশগত মানদণ্ড বিবেচনা করছেন। ফলে শোভন কাজ ও বিনিয়োগ আর আলাদা বিষয় নয়, বরং একই আলোচনার অংশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক—পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে এ প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাপনী বক্তব্যে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনিওন বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শোভন কাজের এই সমন্বিত উদ্যোগকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে আইএলও প্রস্তুত রয়েছে। তিনি RBC সেল, জাতীয় রোডম্যাপ ও সরবরাহ শৃঙ্খলায় ট্রেসেবিলিটি জোরদারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শোভন কাজ অগ্রগতির লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও কানাডার অংশীদারিত্বে ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

