রূপগঞ্জে সেবার রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য: দিপু ভূঁইয়া
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছেন, রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা। কিন্তু গত সতেরো বছর ধরে সেই সেবার রাজনীতি থেকে দেশ বঞ্চিত ছিল। রূপগঞ্জের রাজনীতি হবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের রাজনীতি, উন্নয়ন ও ন্যায়ের রাজনীতি। ইতোমধ্যে সেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে এবং রূপগঞ্জকে অনুসরণ করেই দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষ সেবার রাজনীতি শিখবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভায় বিএনপির মরহুমা চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিপু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের আশ্রয়স্থল। তাঁর জানাজায় যে বিপুল মানুষের ঢল নেমেছিল, তা প্রমাণ করে তিনি কতটা মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সারাজীবন তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। আজ তাঁরই সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরেছেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছে—তার আগমন মানেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা।
তারাব পৌরসভার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারাব এ ক্যাটাগরির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে মানুষ বঞ্চিত। আমাদের সরকার গঠিত হলে তারাব পৌরসভাকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। আমরা এমন একটি তারাব গড়ে তুলবো, যার উন্নয়ন ঢাকার চেয়েও দৃষ্টিনন্দন হবে।’
স্থানীয় শিল্পাঞ্চল ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারাব ও রূপগঞ্জে বহু শিল্পকারখানা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখানকার মানুষই চাকরি থেকে বঞ্চিত। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আপনাদের ইন্ডাস্ট্রি চললে তারাববাসীর ঘরেও চুলা জ্বলতে হবে। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।’
নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক মর্যাদা প্রসঙ্গে দিপু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে দীর্ঘদিন ধরে বি ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে অবহেলা করা হয়েছে। আমরা নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছি এবং সেই লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আমরা দাবি করেছি—নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন রাজউকের হাতে নয়, একটি স্বতন্ত্র নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে হবে। এ দাবির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। এই নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রূপগঞ্জকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
দোয়া মাহফিল ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক দল এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

