জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬

গুম করে শতাধিক মানুষ হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-কে এ তথ্য জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল আগামী ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ দেবেন। একই দিনে মামলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।

শুনানিতে আসামিপক্ষ জিয়াউল আহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও প্রসিকিউশন দাবি করেছে, মামলার অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক তিনজনকে নিয়ে গাজীপুরের দিকে যাত্রা করে জিয়াউল আহসান ও তার দল। ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ‘হটস্পট’। গভীর রাতে নৌযানে করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে বালিশ চেপে গুলি করে হত্যা এবং লাশের সঙ্গে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার বর্ণনাও উঠে এসেছে অভিযোগে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালিত হতো। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্যসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সাজিয়ে হত্যা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে পরিচালিত অভিযানে অন্তত আরও ৫০ জন নিহত হন বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব অভিযানে র‍্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজে উপস্থিত ছিলেন।